E0A6AEE0A6BEE0A699E0A78DE0A695E0A6BFE0A6AAE0A695E0A78DE0A6B8

মাঙ্কিপক্স কী? মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঝুঁকি কাদের বেশি

বিশ্ব এখনো করোনাভাইরাস মহামারির সঙ্গে লড়াই করছে। তার মধ্যে আবার মাঙ্কিপক্স সংক্রমণও একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। মাঙ্কিপক্স হলো একটি ভাইরাল সংক্রমণ যার উপসর্গ গুটিবসন্ত সংক্রমণের মতো।

বিশ্বজুড়ে মাঙ্কিপক্সের ঘটনা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বব্যাপী এই সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ২২শে জুলাই পর্যন্ত, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য জানাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ১৬ হাজার ৮৩৬টি মাঙ্কিপক্স নিশ্চিত করা হয়েছে।

%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8


মাঙ্কিপক্স কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক বিশেষ ধরনের বসন্ত। জলবসন্ত বা গুটিবসন্তের প্রতিকার থাকলেও এই ভাইরাস এতই বিরল যে, এখনো পর্যন্ত এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি জানা নেই চিকিৎসকদের।

মূলত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। তবে নাম ‘মাঙ্কিপক্স’ হলেও একাধিক বন্যপ্রাণির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ইঁদুরের মাধ্যমে।

মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের উপসর্গ কী কী?

মাঙ্কিপক্সের উপসর্গগুলো সাধারণত ৬-১৩ দিনের মধ্যে প্রদর্শিত হয়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) জানিয়েছে, এর প্রথম লক্ষণগুলো দেখা দিতে ৫-২১ দিন সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের শরীরে প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে আছে- জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, পিঠ ও গায়ে ব্যথার মতো লক্ষণ। এর থেকে হতে পারে কাঁপুনি ও ক্লান্তি।

এর পাশাপাশি দেহের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠে। সঙ্গে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন দেখা দিতে থাকে মুখে। ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষত। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশে থাকা ব্যক্তির মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।

শ্বাসনালি, ক্ষতস্থান, নাক, মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। এমনকি আক্রান্তের ব্যবহার করা পোশাক থেকেও ছড়ায় সংক্রমণ।

সম্প্রতি মাঙ্কিপক্সের নতুন ৩ গুরুতর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। ত্বকে ফুসকুড়ির পাশাপাশি মাঙ্কিপক্সে সংক্রমিত ব্যক্তিদের যৌনাঙ্গে ঘা, মুখে ঘা ও মলদ্বারে ঘা হতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন, প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের যৌনাঙ্গে ক্ষত ছিল ও ১৫ শতাংশ মানুষের পায়ুপথ বা মলদ্বারে ব্যথা ছিল।

আরও পড়ুন: ডায়াবেটিস রোগীরা কি মধু খেতে পারবে?

গ্লোবাল হেলথ এজেন্সি মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের গুরুতর লক্ষণগুলোর মধ্যে সেকেন্ডারি স্কিন ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, বিভ্রান্তি ও চোখের সমস্যার বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের ১-১০ শতাংশের মৃত্যুঝুঁকি আছে বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলো নিজে থেকেই চলে যায়।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

যাদের মাঙ্কিপক্স আছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের (যৌন যোগাযোগসহ) মাধমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এছাড়া ইঁদুর ও প্রাইমেটের মতো প্রাণীর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে মাঙ্কিপক্স।

বিশেষ করে মাঙ্কিপক্স সংক্রামিত ব্যক্তি অথবা প্রাণীর সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে তাদের মধ্যেই বেশি ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। প্রথমে ত্বক থেকে ত্বক, মুখ থেকে মুখ অথবা মুখ থেকে ত্বকের যোগাযোগসহ যৌন যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে এবং সংক্রমণ ঘটায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নবজাতক ও ছোট শিশু কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মাঙ্কিপক্সের ঝুঁকি বেশি। যদিও মাঙ্কিপক্স থেকে মৃত্যু বিরল, তবে লক্ষণ হতে পারে গুরুতর।

এছাড়া যাদের ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি ডিজিজ আছে তাদের ক্ষেত্রেও এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। জিনগত কারণে এমন ব্যক্তিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম নিয়ে জন্মায়।

তবে যারা গুটিবসন্তের টিকা দিয়েছেন তারা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই সরক্ষিত। স্মলপক্স ভ্যাকসিনগুলো মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে বলা হয়। মাঙ্কিপক্স গুটিবসন্তের অনুরূপ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হওয়ায় এনএইচএস জানিয়েছে, স্মলপক্সের (এমভিএ) ভ্যাকসিন মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে।

মাঙ্কিপক্স কী? মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঝুঁকি কাদের বেশি Click Now
diabetes tipes

ডায়াবেটিস রোগীরা কি মধু খেতে পারবে?

মধু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য। সেই প্রাচীনকাল থেকে খাদ্য ও ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মধু। সর্দি-কাশি থেকে বিভিন্ন রোগের সমাধানে মধুর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এদিকে ডায়াবেটিস রোগীদের মধু খাওয়া কতটুকু উপকারী তা নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। বিশ্বে টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত অনেক রোগী রয়েছেন। এসব রোগীদের অধিকাংশ সময়ই মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়ার জন্য বলা হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিসে কি মধু খাওয়া যাবে?

মধুতে ফ্রুকটোজ (ফলশর্করা) রয়েছে ৩৮ শতাংশ, গ্লুকোজ ১৭ শতাংশ, ম্যালটোজ ৭ শতাংশ এবং শর্করা ৪ শতাংশ। মধুতে থাকা সামান্য এই শর্করাও রেচন প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে পরিণত হয়। এতে মধুর ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই গ্লুকোজে পরিণত হচ্ছে। খুব সামান্য প্রোটিন পাওয়া যায়। এটি ঘন শর্করা জাতীয় খাদ্য। অনেকে বলে থাকেন যে মধু মিষ্টি জাতীয় হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা ইচ্ছা অনুযায়ী মধু খেতে পারেন।

diabetes tipes

মধুতে কার্বোহাইড্রেট : আজকাল মধুতে ভেজাল পাওয়া যায়। তবে খাঁটি মধুতে প্রতি এক চামচে ৬৪ ক্যালোরি এবং ১৭ গ্রাম চিনি থাকে। এছাড়াও এক চামচ মধুতে ১৭ গ্রাম পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে। সেই সঙ্গে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। কিন্তু এদের পরিমাণ খুব কম। তবে পুষ্টির বিপরীতে মধুকে বেছে নেয়া একদমই ঠিক হবে না।

মধু-চিনির মধ্যকার পার্থক্য : চিনির পরিবর্তে মধুর ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পরীক্ষাটি ব্যাখ্যা করতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, চিনি মধুর থেকে অনেক বিপজ্জনক, কেননা এতে কোনও ভিটামিন বা খনিজ থাকে না। তার অর্থ এই নয় যে মধু খাওয়া ঠিক আছে। মধুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) পরীক্ষায় দেখা গেছে মধুর জিআই স্কোর ৫৮ এবং চিনির জিআই স্কোর ৬০। যার অর্থ চিনি খেলে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। তবে মধুতে এই হার কিছুটা কম। যারা ইনসুলিনের চিকিৎসা নেন তাদের জন্য মধু খাওয়া বিকল্প হতে পারে না। তারপরও মধু খেতে পারেন তবে তা পরিমাণ মতো খেতে হবে।

ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া ঠিক কিনা : বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি জাতীয় খাবার না খাওয়ার জন্য বলেন। তবে অনেকে বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার কথা বলে থাকেন। যদি রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন তাহলে তাকে প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেট সংখ্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের উপাদানের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর তা ছাড়া টাইপ-২ রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই বলা যায় না টাইপ-২ রোগীদের জন্য মধু উপকারী কিনা।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণা এটাই বলছে যে, ডায়াবেটিস রোগীদের সীমিত পরিমাণে মধু খাওয়া যেতে পারে। তবে মধু খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া উচিত।

Post Tag: ডায়াবেটিস রোগী কি খেজুর খেতে পারবে, চিনির বিকল্প কি আছে, ডায়াবেটিস রোগী কি কিসমিস খেতে পারবে, ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া যাবে কি, জিরো ক্যাল, সুগার ফ্রি চিনি, ডায়াবেটিস থেকে মুক্তির সহজ উপায়, ডায়াবেটিস রোগীর চিনির পরিবর্তে, সুগার ফ্রি খাবার, লেক্সাস বিস্কুট, ডায়াসল্ট বিস্কুট, ডায়াবেটিস বিস্কুট, চিনি ছাড়া বিস্কুট, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য দুধ, কোন বিস্কুট ভালো, সুগার জাতীয় খাবারের তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীরা কি মধু খেতে পারবে? Click Now